অ্যামোর্টাইজেশন সূচি কী?
EMI-র ঋণে প্রতি মাসে একই অঙ্কের কিস্তি যায়। তা থেকে আগে সেই মাসের সুদ শোধ হয়, বাকি টাকা আসল কমায়। সুদ যেহেতু শুধু অবশিষ্ট ঋণের ওপর বসে, প্রতিটি কিস্তির সঙ্গে এই ভাগাভাগি বদলায়: শুরুতে কিস্তির বড় অংশ সুদ, শেষে প্রায় পুরোটাই আসল। অ্যামোর্টাইজেশন সূচি এই পরিবর্তনটাই বছর ধরে দেখায় – প্রতি বছর কত সুদ গেল, কত আসল শোধ হলো আর কত ঋণ বাকি। হোম লোন, কার লোন আর পার্সোনাল লোন – তিনটিই এভাবে চলে।
ক্যালকুলেটর কীভাবে ব্যবহার করবেন
- ঋণের পরিমাণ – নতুন ঋণ হলে পুরো অঙ্ক; চলমান ঋণ হলে আজকের বকেয়া আসল (ব্যাংক স্টেটমেন্টে “outstanding principal”)।
- সুদের হার – এখন যে বার্ষিক হার প্রযোজ্য।
- মেয়াদ – বাকি থাকা বছর।
- বাড়তি পরিশোধ – ঐচ্ছিক। প্রতি মাসে EMI-র ওপরে যতটুকু বেশি দিতে পারবেন।
উদাহরণ: 40 লাখ টাকার হোম লোন
12% সুদে 20 বছরের 40 লাখ টাকার ঋণের EMI 44,043৳। প্রথম তিনটি কিস্তি এভাবে ভাগ হয়:
| কিস্তি | সুদ | আসল | অবশিষ্ট ঋণ |
|---|---|---|---|
| 1 | 40,000.00৳ | 4,043.45৳ | 39,95,957৳ |
| 2 | 39,959.57৳ | 4,083.88৳ | 39,91,873৳ |
| 3 | 39,918.73৳ | 4,124.72৳ | 39,87,748৳ |
প্রথম কিস্তির প্রায় 91% সুদ। কিস্তি নম্বর 172 (অর্থাৎ 15তম বছর) আসার আগে আসলের অংশ সুদের চেয়ে বড় হয় না। পুরো ঋণে মোট সুদ দাঁড়ায় প্রায় 65.7 লাখ টাকা।
প্রতি মাসে একটু বেশি দিলে কী হয়
EMI-র ওপরে দেওয়া প্রতিটি টাকা সরাসরি আসল কমায়, আর সেই টাকার ওপর আর কখনো সুদ বসে না। একই 40 লাখ টাকার ঋণে:
| মাসে বাড়তি পরিশোধ | ঋণ শেষ হতে | মোট সুদ | সাশ্রয় |
|---|---|---|---|
| নেই | 20 বছর | 65.7 লাখ টাকা | — |
| 3,000৳ | 15 বছর 11 মাস | 49.78 লাখ টাকা | 15.92 লাখ টাকা |
| 5,000৳ | 14 বছর 2 মাস | 43.33 লাখ টাকা | 22.37 লাখ টাকা |
| 10,000৳ | 11 বছর 4 মাস | 33.19 লাখ টাকা | 32.51 লাখ টাকা |
মাসে মাত্র 5,000 টাকা বাড়তি দিলেই ঋণ কয়েক বছর আগে শেষ হয়। উৎসব-ভাতা বা বোনাস থেকে এককালীন আংশিক পরিশোধের প্রভাবও একই রকম – যত আগে করবেন, সাশ্রয় তত বেশি।
আগাম পরিশোধের আগে যা দেখবেন
- ফি: কিছু ব্যাংক আংশিক বা পূর্ণ আগাম পরিশোধে চার্জ নেয়, আবার কিছু নির্দিষ্ট সময় পর বিনা চার্জে অনুমতি দেয়। ঋণচুক্তি দেখে নিন।
- কিস্তি কমাবেন, না মেয়াদ? আংশিক পরিশোধের পর ব্যাংক জানতে চাইতে পারে। কিস্তি একই রেখে মেয়াদ কমালে সবচেয়ে বেশি সুদ বাঁচে।
- আগে জরুরি তহবিল: সব টাকা ঋণে দেওয়ার আগে কয়েক মাসের খরচ আলাদা রাখুন।
- কোন ঋণ আগে: একাধিক ঋণ থাকলে সবচেয়ে বেশি সুদের ঋণ (যেমন ক্রেডিট কার্ড) আগে শোধ করা লাভজনক।
লক্ষ করুন: এই ফলাফলগুলো পরিকল্পনার জন্য আনুমানিক হিসাব, আর্থিক বা কর-পরামর্শ নয়। চূড়ান্ত অঙ্ক থাকে ব্যাংকের অনুমোদনপত্র (স্যাংশন লেটার) ও ঋণচুক্তিতে; বড় সিদ্ধান্তের আগে আপনার ব্যাংক বা একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সঙ্গে কথা বলুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
শুরুর দিকে EMI-র বেশির ভাগ সুদ কেন?
কারণ সুদ প্রতি মাসে বকেয়া ঋণের ওপর বসে, আর শুরুতে বকেয়া সবচেয়ে বেশি। আসল কমতে থাকলে সুদের অংশ ছোট আর আসলের অংশ বড় হতে থাকে।
আংশিক পরিশোধে কিস্তি কমবে, না মেয়াদ?
এটি ব্যাংক ও আপনার পছন্দের ওপর নির্ভর করে। এই ক্যালকুলেটর কিস্তি একই রেখে মেয়াদ কমানোর পদ্ধতি দেখায়, যাতে সবচেয়ে বেশি সুদ বাঁচে।
চলমান ঋণের জন্যও কি ব্যবহার করা যায়?
হ্যাঁ। ঋণের পরিমাণে আজকের বকেয়া আসল, সুদে আজকের হার আর মেয়াদে বাকি বছরগুলো লিখুন। ফলাফল ব্যাংকের সূচির খুব কাছাকাছি হবে।
ব্যাংকের সূচি এর থেকে একটু আলাদা কেন?
ব্যাংক দিনের হিসাবে সুদ ধরতে পারে, কিস্তির তারিখ ও রাউন্ডিং ভিন্নভাবে করতে পারে, আর সুদের হার বদলালে পুরো সূচিই বদলে যায়। পার্থক্য সাধারণত খুব সামান্য।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 অক্টোবর, 2026