50/30/20 নিয়ম কী?
বাজেট করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি এটি। হাতে পাওয়া আয়কে তিন ভাগে ভাগ করুন:
- 50% প্রয়োজন – বাসা ভাড়া বা হোম লোনের কিস্তি, বাজার-সদাই, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল, মোবাইল ও ইন্টারনেট, সন্তানের স্কুলের বেতন, যাতায়াত, ওষুধ, ঋণের নিয়মিত কিস্তি আর মা-বাবা বা পরিবারের নিয়মিত খরচে সহায়তা।
- 30% শখ – বাইরে খাওয়া, অনলাইন কেনাকাটা, বেড়ানো, নতুন গ্যাজেট, উৎসবের বাড়তি কেনাকাটা।
- 20% সঞ্চয় ও ঋণ শোধ – জরুরি তহবিল, DPS, সঞ্চয়পত্র, FDR, আর ক্রেডিট কার্ড বা ঋণের বাড়তি শোধ।
ক্যালকুলেটর কীভাবে ব্যবহার করবেন
মাসে হাতে আসা টাকা লিখুন – বেতন থেকে কর ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের কর্তনের পরে। আয় অনিয়মিত হলে গত 6–12 মাসের গড় নিন। তারপর একটি ভাগ বেছে নিন। ঢাকার মতো খরচবহুল শহরে শুধু বাসা ভাড়াই আয়ের বড় অংশ নিয়ে নেয়, তখন 60/20/20 বা 70/20/10 বাস্তবসম্মত হতে পারে।
বিভিন্ন আয়ে 50/30/20
| মাসিক আয় | প্রয়োজন (50%) | শখ (30%) | সঞ্চয় (20%) | বছরে সঞ্চয় |
|---|---|---|---|---|
| 25,000৳ | 12,500৳ | 7,500৳ | 5,000৳ | 60,000৳ |
| 40,000৳ | 20,000৳ | 12,000৳ | 8,000৳ | 96,000৳ |
| 60,000৳ | 30,000৳ | 18,000৳ | 12,000৳ | 1.44 লাখ টাকা |
| 1,00,000৳ | 50,000৳ | 30,000৳ | 20,000৳ | 2.4 লাখ টাকা |
মাসে 50,000 টাকা আয়ে 20% অর্থাৎ 10,000 টাকা সঞ্চয় বছরে 1.2 লাখ টাকা – মুনাফা ছাড়াই। 10 বছর DPS বা অন্য সঞ্চয়ে রাখলে মুনাফাসহ তা অনেক বড় অঙ্কে দাঁড়ায়।
প্রথম লক্ষ্য: জরুরি তহবিল
চাকরি হারানো, অসুস্থতা বা হঠাৎ মেরামতের মতো পরিস্থিতির জন্য কমপক্ষে 3 থেকে 6 মাসের প্রয়োজনীয় খরচ আলাদা রাখুন – সহজে তোলা যায় এমন সঞ্চয়ী হিসাবে বা স্বল্পমেয়াদি FDR-এ। এটি তৈরি হয়ে গেলে সঞ্চয়ের অংশ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যে সরান। লক্ষ্য অনুযায়ী মাসে কত জমাতে হবে, দেখুন সঞ্চয় লক্ষ্য ক্যালকুলেটর-এ।
বাজেট মেনে চলার কৌশল
- আগে সঞ্চয়, পরে খরচ: বেতনের দিনেই সঞ্চয়ের টাকা আলাদা হিসাবে বা DPS-এ চলে যাক।
- উৎসবের জন্য আলাদা খাম: দুই ঈদ বা পূজার কেনাকাটা, জাকাত বা উপহারের খরচ সারা বছর ধরে অল্প অল্প করে জমান, যাতে উৎসব-মাসে ধার করতে না হয়।
- খরচ লিখে রাখুন: এক মাস সব খরচ লিখলেই বোঝা যায় টাকা কোথায় যাচ্ছে – বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ছোট ছোট খরচ।
- দামি ঋণ আগে: ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া থাকলে সঞ্চয়ের অংশ আগে সেখানে দিন – দেখুন ক্রেডিট কার্ড পরিশোধ ক্যালকুলেটর।
লক্ষ করুন: এই ফলাফলগুলো পরিকল্পনার জন্য আনুমানিক হিসাব, আর্থিক বা কর-পরামর্শ নয়। চূড়ান্ত অঙ্ক থাকে ব্যাংকের অনুমোদনপত্র (স্যাংশন লেটার) ও ঋণচুক্তিতে; বড় সিদ্ধান্তের আগে আপনার ব্যাংক বা একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সঙ্গে কথা বলুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
50/30/20 নিয়ম কি বাংলাদেশে চলে?
একটি শুরুর কাঠামো হিসেবে চলে। শহরে বাসা ভাড়া বেশি হলে প্রয়োজনের অংশ 50%-এর বেশি হয়ে যায়; তখন শখ কমিয়ে সঞ্চয় অন্তত 10–20% রাখার চেষ্টা করুন।
পরিবারকে পাঠানো টাকা কোন ভাগে পড়বে?
মা-বাবা বা পরিবারের নিয়মিত খরচে দেওয়া টাকা প্রয়োজনের মধ্যে ধরুন, কারণ এটি বাদ দেওয়ার মতো খরচ নয়।
জরুরি তহবিল কত হওয়া উচিত?
অন্তত 3 থেকে 6 মাসের প্রয়োজনীয় খরচ। আয় অনিয়মিত হলে বা পরিবারে একজনই আয় করলে 6 মাস বা তার বেশি রাখাই নিরাপদ।
ঋণের কিস্তি কোথায় ধরব?
নিয়মিত কিস্তি প্রয়োজনের মধ্যে। কিস্তির বাইরে যে বাড়তি টাকা দিয়ে আগে ঋণ শোধ করছেন, সেটি সঞ্চয় ও ঋণ শোধের ভাগে।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 অক্টোবর, 2026