কীভাবে ব্যবহার করবেন
- লক্ষ্যের অঙ্ক – যে টাকা দরকার: ফ্ল্যাটের ডাউন পেমেন্ট, বিয়ের খরচ, হজ বা উমরাহ, গাড়ি, সন্তানের ভর্তি, বা কয়েক মাসের জরুরি তহবিল।
- এখন পর্যন্ত সঞ্চয় – এই লক্ষ্যের জন্য আলাদা রাখা টাকা।
- সময় – কত বছর বা মাসের মধ্যে টাকাটা লাগবে।
- বার্ষিক মুনাফা – যেখানে টাকা রাখবেন তার আনুমানিক হার। নিরাপদ হিসাব চাইলে 0 লিখুন।
হিসাবের সূত্র
প্রথমে দেখা হয়, বর্তমান সঞ্চয় নিজে থেকে কত হবে: সঞ্চয় × (1 + i)n। বাকি ঘাটতি পূরণ করতে প্রতি মাসে যে সমান জমা লাগবে:
মাসিক সঞ্চয় = ঘাটতি × i ÷ ((1 + i)n − 1)
এখানে i মাসিক মুনাফা (বার্ষিক ÷ 12) আর n মাসের সংখ্যা।
উদাহরণ: 5 বছরে 10 লাখ টাকা
লক্ষ্য 10 লাখ টাকা, হাতে আছে 1 লাখ টাকা, সময় 5 বছর, মুনাফা 8%। আপনার 1 লাখ টাকা নিজে থেকে বেড়ে প্রায় 1,48,985৳ হবে। বাকিটার জন্য প্রতি মাসে জমাতে হবে প্রায় 11,582৳। মুনাফা ছাড়া (0%) লাগত 15,000৳।
শূন্য থেকে 10 লাখ টাকা জমাতে প্রতি মাসে কত লাগে:
| সময় | 0% মুনাফা | 6% মুনাফা | 9% মুনাফা |
|---|---|---|---|
| 3 বছর | 27,778৳ | 25,422৳ | 24,300৳ |
| 5 বছর | 16,667৳ | 14,333৳ | 13,258৳ |
| 10 বছর | 8,333৳ | 6,102৳ | 5,168৳ |
DPS দিয়ে লক্ষ্য পূরণ
বাংলাদেশে মাসিক সঞ্চয়ের সবচেয়ে প্রচলিত উপায় ব্যাংকের DPS (ডিপোজিট পেনশন স্কিম বা মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প): প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিস্তি, 3, 5 বা 10 বছরের মেয়াদ, শেষে মুনাফাসহ এককালীন টাকা। উদাহরণ হিসেবে 8% হারে মাসিক চক্রবৃদ্ধি ধরলে:
| মাসিক কিস্তি | 3 বছর | 5 বছর | 10 বছর |
|---|---|---|---|
| 1,000৳ | 40,536৳ | 73,477৳ | 1,82,946৳ |
| 2,000৳ | 81,071৳ | 1,46,954৳ | 3,65,892৳ |
| 5,000৳ | 2,02,678৳ | 3,67,384৳ | 9,14,730৳ |
প্রতিটি ব্যাংক নিজের হার ও মেয়াদপূর্তির তালিকা প্রকাশ করে, আর মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটা হয়। তাই এই সারণি তুলনার জন্য, চূড়ান্ত অঙ্ক নয়। মেয়াদের আগে DPS ভাঙলে সাধারণত মুনাফা অনেক কম পাওয়া যায় – কিস্তির অঙ্ক এমন রাখুন, যা পুরো মেয়াদ চালাতে পারবেন।
লক্ষ্য পূরণের কয়েকটি পরামর্শ
- বেতনের দিনেই সঞ্চয়: বেতন ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে স্থায়ী নির্দেশনায় (standing instruction) টাকা আলাদা হিসাবে সরিয়ে দিন।
- সময় অনুযায়ী জায়গা: 1–3 বছরের লক্ষ্যে ঝুঁকিহীন DPS বা FDR; দীর্ঘ মেয়াদে সঞ্চয়পত্র বা অন্য বিনিয়োগ বিবেচনা করা যায়।
- মূল্যস্ফীতি যোগ করুন: 5 বছর পরের খরচ আজকের চেয়ে বেশি হবে। আজ 10 লাখ টাকার জিনিস বার্ষিক 7% মূল্যস্ফীতিতে 5 বছর পর প্রায় 14.03 লাখ টাকা।
- বোনাস কাজে লাগান: উৎসব-ভাতা বা বার্ষিক বোনাসের একটা অংশ সরাসরি লক্ষ্যের হিসাবে দিন।
এই সঞ্চয় মাসের বাজেটে কীভাবে আঁটবে, দেখতে বাজেট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।
লক্ষ করুন: এই ফলাফলগুলো পরিকল্পনার জন্য আনুমানিক হিসাব, আর্থিক বা কর-পরামর্শ নয়। চূড়ান্ত অঙ্ক থাকে ব্যাংকের অনুমোদনপত্র (স্যাংশন লেটার) ও ঋণচুক্তিতে; বড় সিদ্ধান্তের আগে আপনার ব্যাংক বা একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সঙ্গে কথা বলুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রতি মাসে কত সঞ্চয় করা উচিত?
লক্ষ্য ও সময়ের ওপর নির্ভর করে। প্রচলিত একটি নিয়ম হলো 50/30/20 – আয়ের অন্তত 20% সঞ্চয় ও ঋণ শোধে। ওপরে নিজের লক্ষ্য লিখে সঠিক অঙ্ক দেখুন।
DPS আর এই ক্যালকুলেটর কি একই?
প্রায় একই। DPS-এও প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা জমা হয় আর মুনাফা যোগ হয়। তবে ব্যাংক নিজস্ব পদ্ধতিতে মেয়াদপূর্তির অঙ্ক ঠিক করে এবং উৎসে কর কাটে, তাই সামান্য পার্থক্য হতে পারে।
মুনাফা 0% কেন লিখব?
টাকা সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে বা ঘরে রাখলে, অথবা সবচেয়ে নিরাপদ হিসাব চাইলে 0% লিখুন। তখন মাসিক সঞ্চয় সোজা (লক্ষ্য − সঞ্চয়) ÷ মাস।
লক্ষ্যের অঙ্কে কি মূল্যস্ফীতি ধরা উচিত?
দীর্ঘ লক্ষ্যে হ্যাঁ। কোনো খরচ আজ 10 লাখ টাকা হলে আর মূল্যস্ফীতি 7% হলে 5 বছর পর তা প্রায় 14 লাখ টাকা হবে। লক্ষ্যের ঘরে ভবিষ্যতের অঙ্ক লিখুন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 অক্টোবর, 2026