প্রসবের তারিখ কীভাবে বের করা হয়
চিকিৎসকেরা প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ (EDD – Expected Date of Delivery) সাধারণত নেগেলের নিয়মে বের করেন: শেষ মাসিকের প্রথম দিনের (LMP) সঙ্গে 280 দিন, অর্থাৎ 40 সপ্তাহ যোগ করা হয়। এটি 28 দিনের চক্র ধরে নেয়, যেখানে ডিম্বস্ফোটন হয় মোটামুটি 14তম দিনে। চক্র লম্বা বা ছোট হলে ক্যালকুলেটর তারিখটি সেই অনুযায়ী আগে-পিছে করে – যেমন 32 দিনের চক্রে 4 দিন পরে।
- গর্ভধারণের তারিখ জানা থাকলে: তার সঙ্গে 266 দিন (38 সপ্তাহ) যোগ করুন।
- IVF: তৃতীয় দিনের ভ্রূণ ট্রান্সফার থেকে 263 দিন, পঞ্চম দিনের ভ্রূণ থেকে 261 দিন।
গর্ভের সপ্তাহ গোনা হয় শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে। তাই চিকিৎসক যখন বলেন “8 সপ্তাহের প্রেগন্যান্সি”, তখন গর্ভধারণের বয়স আসলে প্রায় 6 সপ্তাহ।
উদাহরণ
শেষ মাসিক শুরু হয়েছিল 1 জানুয়ারি 2026, চক্র 28 দিনের। 280 দিন যোগ করলে প্রসবের তারিখ দাঁড়ায় 8 অক্টোবর 2026। মুখে মুখে হিসাবের সহজ কৌশল: শেষ মাসিকের তারিখে 7 দিন যোগ করুন, 3 মাস পিছিয়ে যান, তারপর বছর এক বাড়ান – 1 জানুয়ারি + 7 দিন = 8 জানুয়ারি, 3 মাস পিছিয়ে = 8 অক্টোবর।
ত্রৈমাসিক আর জরুরি পরীক্ষা
- প্রথম ত্রৈমাসিক (0–13 সপ্তাহ): প্রথম আলট্রাসনোগ্রাম গর্ভের বয়স ও তারিখ নিশ্চিত করে। 11 থেকে 13 সপ্তাহ 6 দিনের মধ্যে NT স্ক্যান করা যায়। রক্তের গ্রুপ, হিমোগ্লোবিন, প্রস্রাব ও রক্তের শর্করা পরীক্ষা সাধারণত প্রথম চেকআপেই হয়।
- দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (14–27 সপ্তাহ): 18–22 সপ্তাহে অ্যানোমালি স্ক্যান শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন দেখে। দক্ষিণ এশীয় নারীদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের (GDM) ঝুঁকি বেশি, তাই 24–28 সপ্তাহে OGTT পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- তৃতীয় ত্রৈমাসিক (28 সপ্তাহ থেকে): চেকআপ ঘন ঘন হয়, 36 সপ্তাহের পর প্রায়ই প্রতি সপ্তাহে। 37 সপ্তাহের আগে জন্ম হলে তাকে অকাল (প্রিম্যাচিউর) জন্ম বলা হয়।
প্রসবপূর্ব সেবা (ANC): কতবার চেকআপ
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বার্তা হলো গর্ভকালে অন্তত 4 বার প্রসবপূর্ব সেবা (ANC) নেওয়া, আর WHO-র 2016 সালের নির্দেশনা অন্তত 8 বার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগের সুপারিশ করে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভবতী মায়ের চেকআপ, আয়রন-ফলিক অ্যাসিড ও ক্যালসিয়াম বড়ি এবং টিটি/টিডি টিকা দেওয়া হয়। প্রসবের সম্ভাব্য তারিখটি গর্ভবতী মায়ের কার্ডে লিখে রাখুন, আর আগে থেকেই ঠিক করুন কোন হাসপাতালে বা কার সহায়তায় প্রশিক্ষিত হাতে প্রসব হবে, কীভাবে যাবেন আর জরুরি প্রয়োজনে রক্ত কে দেবেন।
বিপদচিহ্ন দেখলে দেরি না করে হাসপাতালে যান: রক্তস্রাব, প্রচণ্ড মাথাব্যথা বা চোখে ঝাপসা দেখা, খিঁচুনি, বেশি জ্বর, পানি ভাঙা, কিংবা শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া। সরকারি স্বাস্থ্য বাতায়নের 16263 নম্বরে ফোন করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়।
প্রসবের তারিখ শুধুই অনুমান
খুব কম শিশুই ঠিক নির্ধারিত দিনে জন্মায়। বেশির ভাগ জন্ম হয় তারিখের দুই সপ্তাহ আগে থেকে এক সপ্তাহ পরের মধ্যে। শুরুর দিকের আলট্রাসনোগ্রামের তারিখ শেষ মাসিকের হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হলে চিকিৎসক সাধারণত আলট্রাসনোগ্রামের তারিখই গ্রহণ করেন। সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ওভুলেশন ক্যালকুলেটর দেখুন।
লক্ষ করুন: এই ফলাফলগুলো সাধারণ তথ্যের জন্য আনুমানিক হিসাব, চিকিৎসা-পরামর্শ নয়। এগুলো চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য-বিশেষজ্ঞের পরীক্ষার বিকল্প হতে পারে না।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রসবের তারিখ কতটা সঠিক হয়?
এটি অনুমান। বেশির ভাগ শিশু নির্ধারিত তারিখের আশপাশে দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে জন্মায়। প্রথম ত্রৈমাসিকের আলট্রাসনোগ্রাম তারিখকে সবচেয়ে নির্ভুল করে।
মাসিক অনিয়মিত হলে কী করব?
অনিয়মিত চক্রে শেষ মাসিক থেকে পাওয়া তারিখ কম নির্ভরযোগ্য। তখন চিকিৎসক শুরুর দিকের আলট্রাসনোগ্রামে শিশুর আকার দেখে তারিখ ঠিক করেন।
গর্ভের সপ্তাহ কীভাবে গুনব?
শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে। তাই গর্ভধারণের সময়েই হিসাবে প্রায় 2 সপ্তাহ পার হয়ে যায়। পুরো গর্ভকাল প্রায় 40 সপ্তাহ, মোটামুটি 9 মাস 7 দিন।
গর্ভাবস্থায় কতবার চেকআপ করাতে হয়?
বাংলাদেশে অন্তত 4 বার প্রসবপূর্ব সেবা নেওয়ার কথা বহুদিন ধরে বলা হয়; WHO অন্তত 8 বার যোগাযোগের পরামর্শ দেয়। কতবার লাগবে, আপনার চিকিৎসক ঝুঁকি দেখে ঠিক করবেন।
ফুল টার্ম কখন ধরা হয়?
37 সপ্তাহ থেকে আর্লি টার্ম, 39 থেকে 40 সপ্তাহ 6 দিন পর্যন্ত ফুল টার্ম, 41 সপ্তাহে লেট টার্ম আর 42 সপ্তাহের পর পোস্ট-টার্ম।
সর্বশেষ হালনাগাদ: 8 অক্টোবর, 2026